সত্যি বলতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির এই যাত্রাটা দেখতে দেখতে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ২০২৫ সাল এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টো জগতের জন্য একটা মোড় ঘোরানো বছর হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।
বিটকয়েন এই বছরের শুরুতে ১ লাখ ডলার পেরিয়ে গিয়ে ইতিহাস রচনা করেছিল। এমনকি ১,২২,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এখন অবশ্য একটু কমে ৮৬,০০০ ডলারের কাছাকাছি আছে। কিন্তু এই ওঠানামা তো ক্রিপ্টোর স্বভাব। যারা এই মার্কেটে কিছুদিন আছেন, তারা জানেন এটা সবসময়ই একটা রোলার কোস্টার রাইডের মতো।
যেটা সবচেয়ে আশার কথা সেটা হলো বড় বড় ইনস্টিটিউশনগুলো এখন ক্রিপ্টোকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে। BlackRock, Fidelity, Visa, JPMorgan Chase – এই নামগুলো এখন ক্রিপ্টো প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে। শুধু কথা বলছে না, সত্যি সত্যি প্রোডাক্ট লঞ্চ করছে। বিটকয়েন ETF-এ প্রথম সপ্তাহেই ১.৯ বিলিয়ন ডলার ইনফ্লো এসেছিল। এটা কোনো ছোট ব্যাপার না।
পুরো ক্রিপ্টো মার্কেটের সাইজ এখন প্রায় ৩.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এক সময় এই মার্কেট ৪ ট্রিলিয়ন ডলারও ছাড়িয়েছিল। এটা আসলে দেখায় যে ক্রিপ্টো আর শুধু টেকি লোকজনের খেলনা নেই। এটা এখন অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
স্টেবলকয়েনের গল্পটা আরও চমকপ্রদ। এখন স্টেবলকয়েনের টোটাল সাপ্লাই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের স্টেবলকয়েন ট্রানজেকশন হয়েছে। মানুষ এখন টাকা পাঠানোর জন্য স্টেবলকয়েন ব্যবহার করছে কারণ ব্যাংক ট্রান্সফারে ৩ দিন লাগে আর ৬% পর্যন্ত ফি দিতে হয়, কিন্তু স্টেবলকয়েনে কয়েক মিনিটেই কাজ শেষ।
এথেরিয়ামের অবস্থা এই মুহূর্তে একটু চ্যালেঞ্জিং – ৩,০০০ ডলারের নিচে। কিন্তু DeFi সেক্টরে এখনও এথেরিয়ামের দাপট আছে। DeFi-এর টোটাল ভ্যালু লকড (TVL) এখন ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা গত বছরের থেকে ৪১% বেশি।
আরেকটা চমকপ্রদ দিক হলো AI টোকেনগুলো। এই সেক্টরের মার্কেট ক্যাপ এখন ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। AI আর ক্রিপ্টো একসাথে মিলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হচ্ছে রেগুলেশনে। আগে যেখানে ক্রিপ্টো নিয়ে সরকারি মনোভাব বেশ কঠিন ছিল, এখন সেটা অনেক সাপোর্টিভ হয়ে উঠছে। আমেরিকায় SEC-এর SAB 121 রিপিল হয়েছে, যেটা ক্রিপ্টো কাস্টোডিয়ানদের জন্য বড় স্বস্তি।
অবশ্যই সব কিছু যে গোলাপি তা নয়। ২০২৫ সালে লঞ্চ হওয়া বেশিরভাগ নতুন টোকেন ৭০% এর বেশি মূল্য হারিয়েছে। অনেক প্রজেক্ট টিকতে পারেনি। এটা আসলে বাজারের পরিপক্বতার একটা লক্ষণ – শুধু মানি আসছে না, কোয়ালিটির দিকেও মনোযোগ বাড়ছে।
ইনভেস্টররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সিলেক্টিভ। তারা এমন প্রজেক্টে বিনিয়োগ করছে যেগুলোর রিয়েল ইউজ কেস আছে, সলিড টেকনোলজি আছে, আর পরিষ্কার ভিশন আছে।
ব্লকচেইন টেকনোলজিও অনেক এগিয়েছে। এখন সেকেন্ডে ৩,৪০০+ ট্রানজেকশন প্রসেস করা যাচ্ছে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এটা ১০০ গুণ বেশি। এই স্কেলেবিলিটি বাড়ার ফলেই নতুন নতুন ইউজ কেস সম্ভব হচ্ছে।
বিটকয়েন এখনও মার্কেটে ডমিনেন্ট – প্রায় ৫৭% মার্কেট শেয়ার। এটা দেখায় যে অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ বিটকয়েনে ফিরে আসে। এটা হয়ে উঠেছে "ডিজিটাল গোল্ড"।
এক্সপার্টদের মতে, আমরা এখন বুল মার্কেটের ফাইনাল ফেজে আছি। এর মানে আরও কিছু ভোলাটিলিটি আসতে পারে, কিন্তু সাথে সাথে বড় সুযোগও আসতে পারে। Standard Chartered-এর ফোরকাস্ট বলছে বিটকয়েন ২০২৬ সালের Q1-এ ১৭৫,০০০-২৫০,০০০ ডলার টাচ করতে পারে।
দিন শেষে, ক্রিপ্টো মার্কেট এখন আর শুধু স্পেকুলেশন না। এটা এখন পেমেন্ট সিস্টেম, ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন, এবং টেকনোলজিক্যাল ইনোভেশনের একটা মাধ্যম হয়ে উঠছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের ব্যালেন্স শিটে বিটকয়েন রাখছে। সাধারণ মানুষ স্টেবলকয়েন দিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ব্লকচেইন টেকনোলজি দিয়ে সাপ্লাই চেইন ট্র্যাক করা হচ্ছে।
হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ আছে। ভোলাটিলিটি আছে। স্ক্যাম আর হ্যাকের ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু এগুলো ঠিক করার জন্যই তো সিকিউরিটি ভালো হচ্ছে, রেগুলেশন আসছে, টেকনোলজি আপগ্রেড হচ্ছে।
যারা দীর্ঘমেয়াদী ভিশন নিয়ে এই মার্কেটে আছেন, তাদের জন্য এটা একটা রোমাঞ্চকর সময়। ক্রিপ্টো এখন আর একটা এক্সপেরিমেন্ট নেই – এটা ধীরে ধীরে মূলধারার অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠছে। আর এই যাত্রায় আমরা সবাই সাক্ষী হয়ে থাকছি।
আপনার মতামত জানতে চাই: আপনি কি মনে করেন বিটকয়েন এই বছরেই আবার ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, নাকি আরও কিছুদিন সময় লাগবে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা – এই মুহূর্তে আপনি কোন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস রাখেন এবং কেন? 💭
কমেন্টে জানান আপনার প্রেডিকশন আর স্ট্র্যাটেজি!

