সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, ইরাকের মাটির নিচে ইরান একটি অত্যন্ত জটিল এবং বিশাল ক্ষে()পণাস্ত্র নেটওয়ার্ক বা 'মিসাইল সিটি' গড়ে তুলছে। সমতল ভূমির নিচে এই পর্যায়ের টানেল নির্মাণ প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময় তো বটেই, সেই সাথে এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণকেও বদলে দিতে পারে।

১. 'সুইস চিজ' নেটওয়ার্ক: মাটির নিচের গোলকধাঁধা

ইরাকের ভূখণ্ড সাধারণত সমতল হওয়ার কারণে সেখানে বাঙ্কার তৈরি করা কঠিন বলে মনে করা হতো। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান এমনভাবে টানেল খনন করেছে যে, বিশেষজ্ঞরা একে 'সুইস চিজ'-এর সাথে তুলনা করছেন। মাটির গভীরে অসংখ্য ছিদ্র বা টানেলের মাধ্যমে ডজনখানেক গোপন শহর এখন সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. ৫০০ মিটার গভীরতা: বাঙ্কার বাস্টারের ধরাছোঁয়ার বাইরে

এই প্রকল্পের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর গভীরতা। মাটির প্রায় ৫০০ মিটার (১৬৪০ ফুট) নিচে এই টানেলগুলো অবস্থিত।

* প্রতিরক্ষা ক্ষমতা: এটি এতটাই গভীরে যে সাধারণ 'বাঙ্কার বাস্টার' বো"মা তো দূরের কথা, এটি একটি সরাসরি পা()রমাণবিক হা()মলা সহ্য করার সক্ষমতা রাখে।

* নিরাপত্তা: এই গভীরতা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে স্যাটেলাইট নজরদারি এবং আগাম বিমান হামলা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয়।

৩. সুলাইমানি থেকে কায়ানি: প্রকল্পের ধারাবাহিকতা

এই মহাপরিকল্পনার বীজ বপন করেছিলেন জেনারেল কাসেম সুলাইমানি। তাঁর লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একটি 'স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ' বা কৌশলগত গভীরতা তৈরি করা। সুলাইমানির মৃত্যুর পর বর্তমান কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কায়ানি এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেন এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

৪. কেন ইরাকের মাটি বেছে নেওয়া হলো?

ইরাককে বেছে নেওয়ার পেছনে ইরানের সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে:

* প্রক্সি নেটওয়ার্ক: ইরাকে শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনীর উপস্থিতি নির্মাণকাজ সহজ করেছে।

* দূরত্ব হ্রাস: ইরাক থেকে ইসরায়েল বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের দূরত্ব ইরানের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে অনেক কম। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদে সময় কম লাগবে।

* সারপ্রাইজ এলিমেন্ট: যুদ্ধের সময় নিজের ভূমি থেকে নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ থেকে আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা ইরানের একটি পুরনো কৌশল।

ইরাকের মাটির নিচে এই ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলো কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এটি ইরানের একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক ঢাল। যদি এই তথ্যগুলো সম্পূর্ণ সত্য হয়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাতে এই 'আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি' বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়াবে।$PAXG

$XAG

$XAU